
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনে করছে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে পর্যন্ত বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের সঙ্গেই আসন সমঝোতার সম্ভাবনা খোলা আছে। যদিও বিএনপি ইতোমধ্যে ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং ওই তালিকায় এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সম্ভাব্য নির্বাচনী আসনগুলোও অন্তর্ভুক্ত। একই আসনে জামায়াতও আগেই প্রার্থী ঘোষণা করায় সমঝোতার প্রশ্নটি আরও জটিল হয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, দল এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, পাশাপাশি বিভিন্ন দলের সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতা নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা–১১ এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর–৪ আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। দলের আরও শীর্ষ নেতারা ঢাকা ও বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে বিএনপি সর্বশেষ ঘোষণায় এই আসনগুলোতেও প্রার্থী চূড়ান্ত করায় অনেকের মতে, এনসিপির সঙ্গে বিএনপির সমঝোতার পথ এখন প্রায় বন্ধ।
তবু এনসিপি নেতাদের একটি অংশ বিশ্বাস করেন—মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগপর্যন্ত রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
গত ১০ অক্টোবর এনসিপির নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় দলের একটি অংশ জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার পক্ষে মত দেয়। বর্তমানে ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গেও এনসিপির অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব জোট বা সমঝোতায় যাওয়ার সম্ভাব্য লাভ–ক্ষতি এনসিপির নীতিনির্ধারকেরা বিশ্লেষণ করছেন।
বিএনপি–জামায়াতের বাইরে এবি পার্টি, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও গণ অধিকার পরিষদকে নিয়ে একটি নতুন জোট তৈরির উদ্যোগেও অংশ নিয়েছিল এনসিপি। ২৭ নভেম্বর জোট ঘোষণার কথা থাকলেও দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য, বিশেষ করে ‘আপ বাংলাদেশ’-কে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ায় এ প্রক্রিয়া আর এগোয়নি।
জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাদের বক্তব্য, নতুন এই জোট হওয়ার সম্ভাবনাই এখন কম।
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন,
“আগামী দু–তিন দিনের মধ্যে ৩০০ আসনে আমাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে। আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি রাখছি। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগপর্যন্ত বিভিন্ন দলের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা থাকছে।”
অর্থাৎ এনসিপি এখনো সব ধরনের রাজনৈতিক সম্ভাবনা খোলা রেখে এগোচ্ছে—একক লড়াই, জোট, কিংবা আসন সমঝোতা—সবই নির্ভর করছে শেষ সময়ের রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর।